‘আত্মা’ অবিনশ্বর – এটা হিন্দু ধর্মের একটি বড়ো কথা। কিন্তু যদি আত্মা থেকেও থাকে তাহলে মৃত্যুর পরে সে কোথায় যায়? কি করে? ইত্যাদি বহু প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘোরে। হাজার হাজার বছর ধরে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানব জাতি। ধর্ম, দর্শন ও আধুনিক বিজ্ঞান—তিন দিক থেকেই খোঁজ চলছে এই রহস্যের । কিন্তু কী আসল সত্যিটা?
- শাস্ত্র কী বলে আত্মা অমর? ভারতীয় দর্শন অনুযায়ী আত্মা কখনও ধ্বংস হয় না। ভগবদ্গীতা-য় বলা হয়েছে, আত্মা কখনও জন্মায় না, কখনও মরে না। উপনিষদ, গীতা ও পুরাণ মতে দেহ ক্ষণস্থায়ী, আত্মা চিরন্তন। মৃত্যুর পর আত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে যাত্রা করে। কর্মফল অনুযায়ী পুনর্জন্ম বা মুক্তি হয় আত্মার। বৌদ্ধ দর্শনে ভিন্ন মত রয়েছে। আত্মার স্থায়ী অস্তিত্ব মানে না বৌদ্ধ দর্শন। সেখানে বলা হয়, মৃত্যুর পর এক ধরনের চেতনাস্রোত বা consciousness stream এগিয়ে যায়—যা আত্মার ধারণার থেকে আলাদা। বৌদ্ধ দর্শন’অনাত্তা’ বা ‘অ-আত্মা’মতবাদ মেনে চলে। এই মতবাদ অনুযায়ী মানুষ পাঁচটি পরিবর্তনশীল উপাদানের সমষ্টি ,এর কোনও স্থায়ী সত্ত্বা নেই, বরং এটি নিরন্তর পরিবর্তনশীল চেতনা প্রবাহ যা পুনর্জন্মের কারণ হয়, আত্মা নয়।
- বিজ্ঞান সরাসরি ‘আত্মা’নিয়ে কথা না বললেও চেতনা নিয়ে বহু গবেষণা করেছে বৈজ্ঞানিকরা। মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়ে ফিরে আসা বহু মানুষের অভিজ্ঞতা কপালে ভাঁজ ফেলেছে বিজ্ঞানীদের। The Lancet ও Journal of Consciousness Studies-এ প্রকাশিত কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার পরও কয়েক মিনিট মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ চলতে পারে।
- সারা বিশ্বজুড়ে বহু গবেষক আত্মা ও পরকাল নিয়ে কাজ করেছেন। শিশুদের পূর্বজন্মের স্মৃতি মনে থাকার প্রমাণ মিলেছে, ভূতের উপস্থিতি সংক্রান্ত রেকর্ডিং পাওয়া গেছে, মৃত্যুর পর আত্মীয়দের স্বপ্নে দেখা কাকতালীয় নয় বলে মনে করেন অনেকে। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে পুনর্জন্মের স্মৃতি গবেষণা করছে।
