‘কর্মফল’ শব্দটা খুবই প্রচলিত। অর্থাৎ মানুষ যেমন কাজ করবে তেমন ফল পাবে। তারমানে কি এই যে এই জন্মের কর্মের ফল এই জন্মেই পাবে? অনেকেই আবার এই জন্মে কর্মফল এই জন্মে না পেলে পরের জন্মে পাবে বলে বিশ্বাস করেন। দেখে নেওয়া যাক এই নিয়ে পুরাণ কি বলছে!শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২২ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে, আত্মা পুরনো দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ গ্রহণ করে—ঠিক যেমন মানুষ পুরনো পোশাক ছেড়ে নতুন পোশাক পরে। গীতার এই শ্লোকের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে পুনর্জন্মের ধারণা পাওয়া যায়,গীতা বলে আত্মা শুধু এক জীবনে সীমাবদ্ধ নয়।
কর্মফলের উল্লেখও রয়েছে গীতায়। গীতার চতুর্থ অধ্যায়ের ১৭ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে, কর্মের গতি বেশ জটিল। কোন কাজ তাৎক্ষণিক ফল দেবে আর কোন কাজ বহু জন্ম পরে ফল দেবে- তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। এই অংশ থেকেই আধ্যাত্মিক দর্শনে প্রারব্ধ কর্ম বা অতীত জীবনের সঞ্চিত কর্মফলের কথা আসে। শাস্ত্র মতে, অতীত জীবনের সঞ্চিত কর্মফল জীবনে ভোগ করতেই হবে, সবই পূর্বনির্ধারিত ।
জানেন এই বিষয়ে কী বলছে উপনিষদ?
বৃহদারণ্যক উপনিষদে বলা হয়েছে—মানুষ যেমন কর্ম করে, মৃত্যুর পর তার পরিণতি তেমনই হয়। এই উপনিষদে কাজ ও পুনর্জন্মকে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। আধ্যাত্মিক গবেষকদের মতে, এটি কর্মফল তত্ত্বের অন্যতম প্রাচীন দলিল।
তাহলে শাস্তি কী? কষ্টই কী শাস্তি?
শাস্ত্রে কষ্টকে শুধু শাস্তি হিসেবে দেখা হয় না। গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৫ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে, মানুষকে নিজেকেই উন্নত হতে হয়। অর্থাৎ আত্মোন্নতির দায়িত্ব সম্পূর্ণ ব্যক্তির নিজের।এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনেক সময় কষ্ট আত্মশুদ্ধি ও চেতনা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।
তবে যারা ভাল মানুষ? কেন কষ্ট পান তাঁরা?
ভালো মানুষরাই বেশি কষ্ট পাবে এমন উল্লেখ সরাসরি শাস্ত্রে নেই, তবে আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় বলা আছে যেসব আত্মা উন্নতির পথে এগোয়, তাদের পরীক্ষাও দিতে হয় বেশি। গীতার কর্মযোগ ও আত্মসংযমের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই তথ্য।
