www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

January 17, 2026 2:32 pm

উত্তর কলকাতার বহু প্রাচীন একটি মন্দির হলো ফিরিঙ্গি কালিমন্দির। এই মন্দিরের প্রতি পাথরের লেখা আছে অনেক ইতিহাস। ঐতিহাসিকদের মতে, আঠারো শতকের শেষভাগ থেকে উনিশ শতকের শুরুতে এই এলাকায় একটি শিবমন্দির গড়ে ওঠে। পরে শাক্ত প্রভাবে সেখানে কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ সেই স্থানই পরিচিত ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি নামে। এই কালীবাড়ির নাম ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি নামকরণ হওয়ার পিছনে শোনা যায় অনেক রকমের গল্প। এলাকায় বসবাসকারী ইউরোপীয়দের ‘ফিরিঙ্গি’ বলা হত, লোককথা অনুযায়ী অনেক খ্রিস্টান ও বিদেশি মানুষ এই মন্দিরে এসে কালীপুজো দিতেন। কেউ সন্তান লাভের জন্য, কেউ রোগমুক্তির আশায় কেউ আবার ব্যবসায় উন্নতির আশায় মানত করতেন । ধর্ম আলাদা হলেও বিশ্বাসে মা সবার। ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে মন্দিরের নাম হয়ে যায় ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি।আবার ‘স্যার হ্যারি ইভান কটন’-এর বই থেকে জানা যায় এই এলাকায় জঙ্গলের মধ্যেই ছিল মহাশ্মশান। সেই শ্মশানের এক ডোম শ্রীমন্ত, ছোট্ট এক চালাঘরে শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । মা শীতলাকেও পুজো করতেন তিনি।

শ্রীমন্ত ডোম ছিলেন বলে এই মন্দিরে কোনও পুরোহিত পুজো করত চাইতেন না। নিজেই পুজো করতেন শ্রীমন্ত । মা কালীর মূর্তি পরে প্রতিষ্ঠিত হয় এখানে। এই মন্দিরের পিছনে ছিল পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত কবিয়াল অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির মামার বাড়ি। পর্তুগিজ হলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রেমিক ফিরিঙ্গি কাবিগানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কালী ও দুর্গার বন্দনা করতেন । শোনা যায়, তিনি নিয়মিত ফিরিঙ্গি কালীবাড়িতে যেতেন এবং মা কালীকে তাঁর কবিগান শোনাতেন। যদিও লিখিত নথিতে তাঁর দ্বারা মন্দির প্রতিষ্ঠার সরাসরি প্রমাণ মেলে না, তবু লোকসংস্কৃতি ও জনশ্রুতি অনুযায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির যোগ ছিল। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি এই মন্দিরের মা কালীর সাধনা করতেন বলে মন্দিরের নাম ফিরিঙ্গি কালীমন্দির হয়েছে বলে মত অনেকের। সেই সময়তেও ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি ছিল সকল ধর্মের মানুষের মেল বন্ধনের স্থল। এখানে জাতপাত , ধর্মের কড়াকড়ি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। খ্রিস্টান, মুসলমান এমনকি বিদেশিরাও মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করতেন—যা সেই সময়ের সমাজব্যবস্থায় ছিল বিরল।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *