www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

March 4, 2026 10:25 am

গঙ্গাসাগরে মকর সংক্রান্তির দিন প্রায় ১ কোটি মানুষ পুণ্য স্নান করেন।

গঙ্গাসাগরে মকর সংক্রান্তির দিন প্রায় ১ কোটি মানুষ পুণ্য স্নান করেন। পুণ্যস্নানের পাশাপাশি মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে পূর্বপুরুষদের পিন্ডদানের রীতি আছে। মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থলে ভোর থেকেই ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার তীর্থযাত্রী। অনেকেই গঙ্গাস্নান সেরে বেলাভূমিতে বসেই বালি দিয়ে পিন্ড তৈরি করে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে পিন্ডদান করছেন।
কথিত আছে, পঞ্চপাণ্ডব বনবাসকালে তাঁরা যে অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন, সেখানে উপযুক্ত উপাচার বা পিণ্ড তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যায়নি। তখন সীতা দেবী গঙ্গার তীরে বালি দিয়ে পিণ্ড তৈরি করে রাজা দশরথের উদ্দেশ্যে পিণ্ডদান করেন। তাঁর নিষ্ঠা ও ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে দশরথের আত্মা মুক্তি লাভ করে এমনটাই লোকবিশ্বাস। এই কাহিনীর সঙ্গে গঙ্গাসাগরের একটি বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে আছে। বলা হয়, সীতা দেবী যে স্থানে বালি দিয়ে পিণ্ডদান করেছিলেন, সেই স্থানই পরবর্তীকালে পিণ্ডদানের পবিত্র ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তাই আজও গঙ্গাসাগরের বেলাভূমিতে বালি দিয়ে পিণ্ডদানের প্রথা প্রচলিত।

এই পৌরাণিক কাহিনী শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং নারীর পিতৃভক্তি, কর্তব্যবোধ ও ধর্মাচরণের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সীতা দেবীর এই কর্ম হিন্দু সমাজে পিণ্ডদান ও পিতৃতর্পণের মাহাত্ম্যকে আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সমুদ্রতটে সারি সারি মানুষ মাথায় গঙ্গাজল নিয়ে বসে পড়ছেন আচার পালনে। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে বালি, তিল, জল ও ফুল দিয়ে তৈরি হচ্ছে পিন্ড। বিশ্বাস অনুযায়ী, গঙ্গাসাগরে পিন্ডদান করলে পিতৃপুরুষের আত্মা শান্তি লাভ করে এবং বংশের কল্যাণ হয়। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে এই বিশেষ আচার পালন করেন। বেলাভূমিতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় খোলা আকাশের নিচেই চলছে পিতৃতর্পণ। কেউ নিজের উদ্যোগে আচার সারছেন, আবার কেউ পুরোহিতের সহায়তায় নিয়ম মেনে পিন্ডদান করছেন।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *