তারকেশ্বর মন্দিরের পরেই হুগলী জেলার অপর এক বিখ্যাত মন্দির হল হংসেশ্বরী মন্দির। ইতিহাস বলছে, হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় অবস্থিত হংসেশ্বরী মন্দিরটি রাজা নৃসিংহদেব ১৭৯৯ সালে নির্মাণ শুরু করেন, এবং তাঁর মৃত্যুর পর রাণী শঙ্করী ১৮১৪ সালে সম্পন্ন করেন, যা তান্ত্রিক সাধনার ষটচক্রভেদের তত্ত্ব মেনে তৈরি। এর স্থাপত্যে মানবদেহের গঠন প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে ১৩টি পদ্মকলি আকৃতির মিনার ও পদ্মকুঁড়ির মতো শিখর মন্দিরটিকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে।
- নির্মাণ ও ইতিহাস:
শুরু: ১৭৯৯ সালে (মতান্তরে ১৭৮৮) রাজা নৃসিংহদেব রায় মন্দির নির্মাণ শুরু করেন। - সমাপ্তি: তাঁর মৃত্যুর পর, ১৮১৪ সালে তাঁর বিধবা স্ত্রী রাণী শঙ্করী মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন।
- নামকরণ: ‘হং’ (শিব) এবং ‘স’ (শক্তি) থেকে “হংসেশ্বরী” নামটি এসেছে, যা তন্ত্রসাধনার সাথে সম্পর্কিত।
- স্থাপত্য ও বৈশিষ্ট্য:
তান্ত্রিক রূপায়ণ: মন্দিরটি তান্ত্রিক সাধনার ‘ষটচক্রভেদ’ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যা মানবদেহের ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুম্না ইত্যাদি নাড়ী ও চক্রকে বোঝায়। - পদ্মকলি শিখর: ১৩টি পদ্মকলি আকৃতির মিনার এবং পদ্মের কুঁড়ির মতো শিখর এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ, যা বাংলার অন্যান্য মন্দির থেকে একে আলাদা করে।
- গর্ভগৃহ: গর্ভগৃহে মহাকালের হৃদয়ের ওপর দেবী হংসেশ্বরী দ্বাদশদল পদ্মের ওপর উপবিষ্ট, যা শাক্ত মতে কালীর এক রূপ।
- রাজস্থানি চিত্র: মন্দিরের সামনের ছাদে রাজস্থানি শিল্পীদের আঁকা চিত্রকারুকার্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- অনন্যতা: এর গঠনশৈলী ও তান্ত্রিক তাৎপর্য একে একটি অদ্বিতীয় স্থাপত্যের নিদর্শন করে তুলেছে।
- গুরুত্ব:
এটি হুগলি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI)-এর অধীনে একটি হেরিটেজ সাইট।
