www.machinnamasta.in

ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লী গং গণপতয়ে বর বরদ সর্বজনস্ময়ী বশমানয় ঠঃ ঠঃ

April 21, 2024 7:36 am
hanuman chalisa

হনুমান (/ˈhʌnʊˌmɑːn/; সংস্কৃত: हनुमान, আইএএসটি: Hanumān অথবা আঞ্জনেয়) হলো হিন্দু দেবতা ও মর্যাদা পুরুষোত্তম রামের ঐশ্বরিক বানর সঙ্গী। হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র হনুমান। তিনি রামের ভক্ত এবং চিরঞ্জীবদের একজন। হনুমান বায়ু দেবতার আধ্যাত্মিক পুত্র যিনি একাধিক গল্পে হনুমানের জন্মে সরাসরি ভূমিকা পালন করেন হনুমান হলেন পৃথিবীতে ভগবান শিবের আংশিক অবতার বলে মনে করা হয়। তাকে বায়ু দেবতার অবতারও বলা হয়। মহাকাব্য মহাভারত এবং বিভিন্ন পুরাণ-এর মতো আরও কয়েকটি গ্রন্থে হনুমানের উল্লেখ রয়েছে।

হিন্দু ধর্মে যে ৮ চিরঞ্জীবীর কথা বলা হয়, তার মধ্যে অন্তম হলেন বজরংবলী। তিনি কলিযুগের দেবতা। মনে করা হয় আজও পৃথিবীতে বজরংবলী জীবিত রয়েছেন। এমনকি যেখানে যেখানে রামচরিতমানস, সুন্দরকাণ্ড পাঠ বা রামের পুজো করা হয়, সেখানে বজরংবলী কোনও না-কোনও রূপে উপস্থিত থাকেন। ব্যক্তি নিজের ভয় দূর করতে সাহস ও শক্তি অর্জনের জন্য বজরংবলীর পুজো করে থাকেন। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে হনুমানকে অধিক বলশালী দেবতার আখ্যা দেওয়া হয়েছে। 

পাঁচ ভাই ছিলেন বজরংবলী

আপনারা হয়তো জানেন না যে বজরংবলীর (Bajrangbali) আপন ৫ ভাই ছিলেন। এই পাঁচ ভাইই বিবাহিত ছিলেন। ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। এই পুরাণে বজরংবলীর পিতা কেসরী ও তাঁর বংশের বর্ণনা পাওয়া যায়। এই পুরাণ অনুযায়ী বানররাজ কেসরীর ৬ পুত্রের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন হনুমান। বজরংবলীর ভাইয়ের নাম হল- মতিমান, শ্রুতিমান, কেতুমান, গতিমান ও ধৃতিমান। এই ভাইয়েরা বিবাহিত ছিলেন ও এঁদের সন্তান-সন্ততিও ছিল।

শিবের অবতার ছিলেন বজরংবলী

একদা স্বর্গে বসবাসকারী অপ্সরা অঞ্জনাকে (Sri Hanuman) ঋণি অভিশাপ দেন যে, তিনি যখনই কাউকে ভালোবাসবেন, তাঁর মুখ বাদরের মতো হয়ে যাবে। তখন তিনি ব্রহ্মার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। ব্রহ্মার আশীর্বাদে তিনি পৃথিবীতে মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে বানররাজ কেসরীর সঙ্গে প্রেম করেন অঞ্জনা। পরে তাঁরা বিবাহ করেন। শিবের পরমভক্ত ছিলেন অঞ্জনা। অঞ্জনার ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে তাঁর গর্ভ থেকে পুত্র রূপে জন্মগ্রহণ করার আশীর্বাদ দেন।

কিছুদিন পর রাজা দশরথ (Dashrath) পুত্রোষ্টি যজ্ঞ করেন। ঋষি দশরথের সমস্ত স্ত্রীকে খাওয়ার জন্য পায়েস দেন। কৌশল্যার পায়েস থেকে কিছুটা একটি চিল নিয়ে উড়ে যায়। শিবের আদেশে পবন দেব সেই পায়েস ধ্যানমগ্ন অঞ্জনার হাতে ফেলে দেন। সেটিকে শিবের আশীর্বাদ ভেবে গ্রহণ করেন অঞ্জনা। এর ফলে শিবের অংশরূপে জন্মগ্রহণ করেন পবনপুত্র হনুমান।

বজরংবলী নাম হওয়ার কারণ

সীতাকে (Sita) সিঁদূর লাগাতে দেখে অঞ্জনীপুত্রের মনে প্রশ্ন জাগে যে সীতা প্রতিদিন এটি কেন লাগান। জানকীর কাছ থেকে হনুমান উত্তর পান যে সিঁদূর লাগালে রামের আয়ু বাড়বে। তখন হনুমানও নিজের সারা শরীরে সিঁদূর লাগিয়ে নেন। তাঁর ধারণা এর ফলে রামের (Sri Ram) আয়ু বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সিঁদূরের অপর নাম বজরং। সেই দিনের পর থেকে হনুমানকে বজরংবলী নামে ডাকা শুরু হয়। ঠিক এ কারণে বজরংবলীর পুজো সিঁদূর নিবেদনের রীতি প্রচলিত।

সংস্কৃতে হনুমানের অর্থ বিকৃত চোয়াল

সংস্কৃতে হনুর অর্থ চোয়াল ও মান-এর অর্থ বিরূপিত করা। বজরংবলীর ছোটবেলার নাম ছিল মারুতি। একদা মারুতি শিবকে ফল ভেবে খেয়ে ফেলেন। এর ফলে সমগ্র জগতে অন্ধকার ছেয়ে যায়। এই ঘটনায় রেগে গিয়ে ইন্দ্র মারুতিকে বজ্র দিয়ে প্রহার করেন। যার ফলে তাঁর চোয়াল ভেঙে যায় ও তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এই ঘটনার পর থেকেই মারুতি হনুমান নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

ব্রহ্মচারী হওয়া সত্ত্বেও একটি পুত্র সন্তান ছিল বজরংবলীর

বজরংবলী ব্রহ্মচারী ছিলেন। তবে আশ্চর্য হবেন যে, তাঁর এক পুত্র ছিল, যাঁপ নাম মকরধ্বজ। এক মাছের গর্ভ থেকে জন্ম হয়েছিল তাঁর। লঙ্কা দহনের পর বজরংবলী যখন নিজের শরীরকে শীতল করার জন্য সমুদ্রে ডুব দেন, তখন তাঁর শরীর থেকে নির্গত ঘাম এক মাছ গিলে ফেলে। পরে সেই মাছ থেকেই মকরধ্বজের জন্ম হয়।

বজরংবলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন রাম

একদা নারদের কথায় বজরংবলী বিশ্বামিত্র ছাড়া সমস্ত ঋষিমুনিদের আমন্ত্রণ করেন। বিশ্বামিত্রও একদা রাজা ছিলেন, এ কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হন। তখন তিনি রামকে বজরংবলীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার কথা বলেন। বিশ্বামিত্র রামের গুরু ছিলেন। তাই তিনি শেষ পর্যন্ত এই আদেশ মেনে নেন। বজরংবলীর ওপর তীর বর্ষণ করেন রাম। নিজের দিকে তীর আসতে দেখে রাম নাম জপ করেন বজরংবলী। তখন সমস্ত বাণ ফিরে যায়। তখন রাম ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করেন। কিন্তু এই অস্ত্রও ধ্যানমগ্ন বজরংবলীকে প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসে। এর পরই বজরংবলীর মৃত্যু দণ্ডের চিন্তাভাবনা ত্যাগ করেন রাম।

বাল্মীকি ছাড়াও রামায়ণ রচনা করেছিলেন হনুমান

লঙ্কা বিজয় ও রামের রাজ্যাভিষেকের পর বজরংবলী হিমালয়ে চলে যান। হিমালয়ের দেওয়ালে নিজের নখ দিয়ে রামের কাহিনি লেখেন। বাল্মিকী যখন নিজের লেখা রামায়ণ বজরংবলীকে দেখাতে যান, তখন হনুমানের লেখা রাম কাহিনি দেখে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। কারণ বাল্মিকীর মতে বজরংবলীর রামায়ণ তাঁর লেখা রামায়ণ থেকেও বেশি ভালো। বজরংবলীর লেখা এই কাহিনি হনুমদ রামায়ণ নামে পরিচিত। তবে বাল্মিকী হতাশা দেখে তিনি এই রামায়ণ মুছে ফেলেন।

রামের শরীর ত্যাগ করার সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন বজরংবলী

রাম মানব শরীর ত্যাগ করে বৈকুণ্ঠে প্রস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তিনি জানতেন যে তাঁৎ পরমভক্ত বজরংবলী তাঁকে ধরাধাম ত্যাগ করতে দেবেন না। তখন রাম নিজের আংটি পাতাল লোকে ফেলে দেন এবং বজরংবলীকে তা খুঁজে আনার আদেশ দেন। তখন পাতাল লোকে আংটি খুঁজতে যান বজরংবলী এবং রাম সরযূ নদীতে ডুব দিয়ে নিজের মনুষ্যরূপী শরীর ত্যাগ করেন।

সীতার উপহার অস্বীকার করেন বজরংবলী

রামের রাজ্যাভিষেকের পর সকলকে উপহার দেন সীতা। তখন তিনি বজরংবলীকে এক সুন্দর মুক্তোর হার দেন। কিন্তু বজরংবলী সেই হারের প্রতিটি মুক্তো ভেঙে তাতে রামের ছবির খোঁজ করতে থাকেন। তাতে রামের ছবি না-পাওয়ায় সেই উপহার অস্বীকার করেন এবং জানান, যে বস্তুতে রাম নেই, তা তাঁর কাছে অস্বীকার্য। তার পর তিনি নিজের বুক চিড়ে সকলকে দেখান যে তাঁর মনে রাম-সীতা বাস করেন।

Hanuman Chalisa in Bengali Lyrics

 দোহা 

শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি |
বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দাযক ফলচারি ‖
বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার |
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ‖

 ধ্যানম্ 

গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ |
রামাযণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ‖
যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ |
ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ‖

 চৌপাঈ 

জয হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর |
জয কপীশ তিহু লোক উজাগর ‖ 1 ‖

রামদূত অতুলিত বলধামা |
অংজনি পুত্র পবনসুত নামা ‖ 2 ‖

মহাবীর বিক্রম বজরংগী |
কুমতি নিবার সুমতি কে সংগী ‖3 ‖

কংচন বরণ বিরাজ সুবেশা |
কানন কুংডল কুংচিত কেশা ‖ 4 ‖

হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ |
কাংথে মূংজ জনেবূ সাজৈ ‖ 5‖

শংকর সুবন কেসরী নংদন |
তেজ প্রতাপ মহাজগ বংদন ‖ 6 ‖

বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর |
রাম কাজ করিবে কো আতুর ‖ 7 ‖

প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিযা |
রামলখন সীতা মন বসিযা ‖ 8‖

সূক্ষ্ম রূপধরি সিযহি দিখাবা |
বিকট রূপধরি লংক জলাবা ‖ 9 ‖

ভীম রূপধরি অসুর সংহারে |
রামচংদ্র কে কাজ সংবারে ‖ 10 ‖

লায সংজীবন লখন জিযাযে |
শ্রী রঘুবীর হরষি উরলাযে ‖ 11 ‖

রঘুপতি কীন্হী বহুত বডাযী |
তুম মম প্রিয ভরত সম ভাযী ‖ 12 ‖

সহস্র বদন তুম্হরো যশগাবৈ |
অস কহি শ্রীপতি কংঠ লগাবৈ ‖ 13 ‖

সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা |
নারদ শারদ সহিত অহীশা ‖ 14 ‖

যম কুবের দিগপাল জহাং তে |
কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে ‖ 15 ‖

তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা |
রাম মিলায রাজপদ দীন্হা ‖ 16 ‖

তুম্হরো মংত্র বিভীষণ মানা |
লংকেশ্বর ভযে সব জগ জানা ‖ 17 ‖

যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ |
লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ ‖ 18 ‖

প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী |
জলধি লাংঘি গযে অচরজ নাহী ‖ 19 ‖

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে |
সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে ‖ 20 ‖

রাম দুআরে তুম রখবারে |
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ‖ 21 ‖

সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা |
তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না ‖ 22 ‖

আপন তেজ সম্হারো আপৈ |
তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ ‖ 23 ‖

ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ |
মহবীর জব নাম সুনাবৈ ‖ 24 ‖

নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা |
জপত নিরংতর হনুমত বীরা ‖ 25 ‖

সংকট সে হনুমান ছুডাবৈ |
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ ‖ 26 ‖

সব পর রাম তপস্বী রাজা |
তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ‖ 27 ‖

ঔর মনোরধ জো কোযি লাবৈ |
তাসু অমিত জীবন ফল পাবৈ ‖ 28 ‖

চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা |
হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিযারা ‖ 29 ‖

সাধু সংত কে তুম রখবারে |
অসুর নিকংদন রাম দুলারে ‖ 30 ‖

অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা |
অস বর দীন্হ জানকী মাতা ‖ 31 ‖

রাম রসাযন তুম্হারে পাসা |
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ‖ 32 ‖

তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ |
জন্ম জন্ম কে দুখ বিসরাবৈ ‖ 33 ‖

অংত কাল রঘুপতি পুরজাযী |
জহাং জন্ম হরিভক্ত কহাযী ‖ 34 ‖

ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরযী |
হনুমত সেযি সর্ব সুখ করযী ‖ 35 ‖

সংকট ক(হ)টৈ মিটৈ সব পীরা |
জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা ‖ 36 ‖

জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসাযী |
কৃপা করহু গুরুদেব কী নাযী ‖ 37 ‖

জো শত বার পাঠ কর কোযী |
ছূটহি বংদি মহা সুখ হোযী ‖ 38 ‖

জো যহ পডৈ হনুমান চালীসা |
হোয সিদ্ধি সাখী গৌরীশা ‖ 39 ‖

তুলসীদাস সদা হরি চেরা |
কীজৈ নাথ হৃদয মহ ডেরা ‖ 40 ‖

 দোহা 

পবন তনয় সঙ্কট হরণ – মঙ্গল মূরতি রূপ |
রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ ||
সিয়াবর রামচন্দ্রকী জয় | পবনসুত হনুমানকী জয় | বোলো ভায়ী সব সন্তনকী জয় |

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *